Poems Of Soroj Mostofa
স্বরোজ মোস্তফার কবিতা
দৃষ্টি
পা ভিজানো ভোরে আমরা কাছে এসেও
দূরে যেতে থাকি।
সৈকত বালিতে নাম খোদাইয়ের পরও
সে নাম বাতাসে ঢাকে
কে কার ক্লান্তিকে মুছে দেয় বল!
দৃশ্য যে জড়িয়ে ধরে জানতাম।
যে টুকু পাবার সে টুকুকে পেলে
দুচোখ দুহাতে মুছি
না হলে চোখ গুলোকি বাঁচতে পারতো।
নৌকায় আমরা একই পথের যাত্রী
যাত্রা পথে পরস্পরের চোখ দেখেই বুঝি
অধিকাংশ পাতাই সবুজ।
কালাই
পায়ের শব্দের কাছে নদীর সবুজে
মাশ কলাইয়ের গাছ।
কৃষক কেবল ছিটিয়ে দিয়েছে বীজ
তাতেই সে মাথা উঁচু
মাটি ঘাস লতাকে ছাড়িয়ে।
ক্ষেতের কিনারে দূর্গা মা’র গলে যাওয়া মূর্তির পাশে
দু’একটি বক ধ্যানের মূহুর্তে ভাবে
অজস্র শিশুর মুখে কি হবে আহার!
শিশুরা ¯^”Q›`| গোল্লাছুটে ধাক্কা খায় হেমন্ত মাঠ।
জঙলি ঘাসের ভিড়ে ঠিক ঠিক তুলে আনে কাঁচা পাঁকা কালাই।
উঠানে শুকায়। কিছু ভেজে খায়। কিছু তুলে রাখে মটকায়।মা
তোমাকেই সামলাতে হয় চুলার আগুন
শ্লেট পাথরে অক্ষর আর সাধক পাখির জন।
ধান শুকানোর উপাচারে
খেজুর গাছের গাল ছুঁয়ে বসে পড়লো আকাশ।
কাকা ও সন্ধ্যার উপহারে
শুরু হলো নিজেকে দেখার আয়োজন।
সন্ধ্যাতর হয়ে হাসের বাচ্চারা ফিরছে ঘরে
এই ঘরকেই লেপে মুছে
এখন তুষের ধোঁয়া পাঠাচ্ছো গোহালে
তোমার ছায়াকে ছুয়ে
পাখিরা দু’বেলা শিহরণ তুলে গেল।
কিন্তু কপালের ভাঁজ থেকে বেরুতে পারলে না তুমি
নিজেকে বেঁধে রেখেছো আঁচলের গিটে।ডোম
কাউকে মনে রাখে না সে।
নেই তার ঋতুপ্রীতি সমপ্রীতির মধুর শৃঙ্খল।
তীব্র আগুনে সে শরীর পোড়ায়
মনোকষ্ট কী জিনিস জানা নাই তার।
আগুন জ্বালাতে আর শীতের নদীতে কয়লা ভাসাতে
মোটেও কষ্ট হয় না তার।
দিন যায়। নিভন্ত চুল্লির ছাই মেখে আসে রাত;
শিয়ালের ডাকে স্পষ্টতর হয় তেতুল গাছের দেহ।
কলা পাতার ওলট পালটে শক্ত চোয়ালের ডোম
হঠাৎ কেন যে হাটু মুড়ে খুঁজে বিগলিত চোখের সংবাদ।
তখন সে তাড়ির নেশায় চূড়
তখন সে দূর নীলচে পাহাড়ে বিচরণ করে।বর্ষা
কদম গাছের পাতা ভিজেই চলেছে
আকাশ দেখাচ্ছে ভরা পকুরের নাচ আর
পায়ের নূপুর তার থেমে থেমে বাজে।
কচু ঘাস লতানো ঝোপের চিপ চিপে কাদায়
সাপ ও ব্যাঙের প্রাকৃতিক যুদ্ধে পৃথিবী সজাগ।
সূর্যকে লুকানো গেলে প্রণয়ীরা সব
চোখ বাধা চোখ খোলা দশা।
চুড়ির উচ্ছাস আর কোমর প্যাচানোর নিশ্বাসে
মাগুর মাছও খাবলে ধরেছে জলমাটি।
টিনের চাল ফাটানো বৃষ্ঠির শলায়
মাইন কচুর বর্ষাতি মাথায়
অমিত্রাক্ষর ছন্দের অফুরন্ত দমে
সে পরোয়াহীন কান্তানো কই মাছের দল।
সাঁতার কাটছে জলঢেরা
ঘাটের নৌকাটি ভেসে যাচ্ছে অন্য ঘাটে।
বৃষ্টির পরেই শুরু হয় নরম মাটির চাষ
বীজ বপনের হাত শতাব্দী আগেও ছিল
ছিল ছদ্মবেশ, মোষের বিমুগ্ধ স্নান।দর্জি ভাই
আঙুলের পর আঙুল বসিয়ে
দর্জিভাই আজো সেলাই করছে তোমার হৃদয়
ওদের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টতর হয় চোয়ালের ঘামে
প্রতিটি আঙুল যেন সরলতা। পায়ের উঠা নামায়
সেলাই মেশিনের শব্দে এ শহরটাও প্রাণবন্ত।
দৈর্ঘ প্রস্তের ফিতায়
অসংখ্য চোখের সীমানা এরা ছুঁতেও পারে না
খুলতে পারে না আড়ালিত একেক জনের জলঘর।
খুতহীনতায় অলিন্দের দৈর্ঘ প্রস্থে তাই
সেলাই করছে তোমার হৃদয়।
প্রণয়ের এরা আবার কি বুঝে!
নতুন কাপড়ে নতুনতর চোখের আসা যাওয়াই দেখে
চেয়ে দেখে তোমার সে হাসির স্থায়ীত্ব কত!
দ্রুতই ফুরাচ্ছে বিকেলের রঙ
রক্ত জটিল শরীরী মানুষকে বিশ্বাস করে ভাবে
জীবন সবার অসুখ সারিয়ে দিবে।Poems
0 Comments